আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের দিন এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই কৃষকদের হাতে পৌঁছাবে এই কার্ড—যা প্রতীকীভাবে কৃষি খাতের আধুনিকায়নেরও সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে শিবগঞ্জে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে তাদের জমি, উৎপাদন, পরিবার ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হান্নান জানান, এখন এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই শেষে যোগ্য কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই কার্ড। প্রিপাইলটিংয়ে শিবগঞ্জ: একটি পরীক্ষামূলক মডেল সারা দেশের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে (প্রিপাইলটিং) ৮টি বিভাগের ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের উথলী ব্লক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উথলী ব্লকের পরিসংখ্যান বলছে, জমি: প্রায় ১,০০০ হেক্টর, পরিবার: ২,৬৯০টি, কৃষকের সংখ্যা: ৩,৫১৬ জন, ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে: ৩,২৪৭ জনের এই তথ্যই প্রমাণ করে, একটি ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত তৈরি হচ্ছে। এই ‘কৃষক কার্ড’ শুধু পরিচয় নয়—এটি কৃষকের জন্য একাধিক সুবিধার প্রবেশদ্বার। কার্ডধারীরা পাবেন, ন্যায্যমূল্যে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি প্রাপ্তি, কম খরচে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমার সুযোগ, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্যের ডিজিটাল আপডেট। এছাড়া ফসলের রোগবালাই সম্পর্কেও তাৎক্ষণিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর আগে বুড়িগঞ্জ বাজার এলাকায় বিলহামলা খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘোষণা দিয়েছিলেন—পহেলা বৈশাখ থেকেই কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হবে। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের পথেই এখন শিবগঞ্জ। বর্তমানে এটি প্রিপাইলটিং পর্যায়ে থাকলেও পরিকল্পনা অনেক বড়। ১৪ এপ্রিলের পর ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হবে, এরপর তা ১০০টি উপজেলায় বিস্তৃত করা হবে, আগামী অর্থবছরে সারা দেশে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে
শিবগঞ্জে শুরু হতে যাওয়া এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয় এটি কৃষিকে ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার একটি বড় পদক্ষেপ। ‘কৃষক কার্ড’ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা সবকিছুতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন বছরে কৃষকের হাতে এই কার্ড যেন হয়ে ওঠে শুধু একটি প্লাস্টিক নয় একটি সম্ভাবনার চাবিকাঠি।