আজ বুধবার (০২ আগস্ট) দুপুরে তিন দিনের সফরে ভোলায় এসে শহরের নতুন বাজার চত্বরে এক পথসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে, তিনি এতো বড় একটি দায়িত্বে বিশ্বস্ততার সাথে আমাকে দিয়েছেন। সকলের দোয়া থাকলে আমি সততার সাথে এই দায়িত্ব পালন করবো। নিজের রাজনীতির ইতিহাস টেনে তথ্য মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সাল থেকে আমার রাজনীতি আরম্ব। আমার পিতা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ইন্তেকাল করেন ২০০৬ সালে। তারপরই আমি রাজীনিতে আসি। সেই সময়টা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। সেই সময় মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর অনেক অন্যায়-অত্যাচার হয়। একটা বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে আমার নির্বাচন করতে হয়েছে। সেই সময় বাংলাদেশে আমেকে কেউ চিনতো না। ভোলাতে আমার একটাই পরিচয় ছিলো আমি মরহুম মঞ্জু মিয়ার ছেলে। ২০০৮ সালে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সবাই মিলে কাজ করে আমাকে বিশ্বাস করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এর পর দীর্ঘ ১৮বছর আমি কি রাজনীতি করেছি তা সবাই ভালো করে জানেন। আমি কতো সুযোগ সুবিধা নিতে পারতাম কিন্তু সেগুলো বাদ দিয়ে জেলজুলুম মাথায় নিয়ে আমি জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে থেকেছি। এবারের নির্বাচনেও মাত্র ১২দিনের মাথায় বিএনপি ও আমার দলের নেতাকর্মীসহ ভোলার মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। আমার জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে ভোলার মানুষরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এই জন্য আমি আজীবন ভোলার মানুষের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। আমি কোনো এমপি না, কোনো মন্ত্রী না, আমি আপনাদের মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই। নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন অনেকে দেন নাই, কিন্তু আমি সবাইকে বলে দিতে চাই, আপনারা আমাকে সহযোগীতা করেন যাতে করে আমি সকলের জন্য কাজ করতে পারি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো চোর সন্ত্রাসী আমার দলের না, আমার দল ব্যবহার করে কেউ যদি চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী করে আমার একটাই কথা, আমার কোনো সন্ত্রাসী, কমিশন, জিআর, টিআর, কাবিখা এমনকি ঠিকাদারি আমার রক্তে নাই, বংশেও নাই। ভোলার মানুষ পাশে ছিলো, আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন তাই আমি নির্বাচিত হয়েছি। আমি কারো উপরে নির্ভরশীল না। আমি শুধু আল্লাহ ও মানুষের উপর নির্ভরশীল। আমি কথা দিচ্ছি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন থেকে আরম্ব করে যারা আমাদের বিরোধী দল আছে প্রত্যেকের জন্য আমার দরজা খোলা। যেখানেই উন্নয়নমূলক কাজ করেত চাইবেন, আপনারা আমার কাছে আসবেন। এই ভোলাতে কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না।
ভোলার উন্নয়ন নিয়ে পার্থ বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে সংসদে আমাদের মাননীয় স্পিকার মেজর হফিজ উদ্দিন আহমেদসহ আমরা ভোলার চারটি আসনের সকলেই কথা বলেছি। সবচেয়ে বেশী বলেছি আমি। আমার সবাই মিলে ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, অনুমোদনের অপেক্ষায়। এছাড়াও ১২০কোটি টাকায় ভোলায় মেডিক্যাল কলেজ হবে, নদী ভাঙনরোধে ৭০০ কোটি টাকা ও সড়ক সংস্কারের জন্য ৫০০কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য ভোলার প্রতিটি মানুষ আন্দোলন করেছে এবং সেটার জন্য আমার সবাই কাজ করে গিয়েছি। সরকার সেইটাও দেখছে, আবার সরকার তার নিজস্ব অবস্থান থেকে হিজলা-মুলাদী হয়ে শরিয়তপুর দিয়ে ঢাকায় গেলে ৪০মিনিট সময় কম লাগে সেটাও বিবেচনা করছে। কিন্তু কিছু মানুষ এখানে বিভ্রান্তিকরভাবে বলার চেষ্টা করছে, এরা ভোলার সেতু চায় না। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করবো ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, ভোলার মানুষকে বিভক্তি করবেন না। আমরা সাবাই মিলে ভোলাতে সবচেয়ে বেশী উন্নয়নমূলক কাজ করবো। এ কাজ করতে গিয়ে বিরোধীদল থেকে শুরু করে সকলকে সাথে নিয়ে আমার এগিয়ে যাবো। আর কোনো মারামারি হানাহানির রাজনীতি হবে না, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি হবে না।
সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়িত্ব দিয়েছেন সে দায়িত্ব আমি ধরে রাখতে পারি এবং আল্লাহ তায়ালা যে আমানত আমার হাতে দিয়েছে আমার দ্বারা যাতে একটা পয়সাও খেয়ানত না হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তার নির্বাচনী এলাকা ভোলায় আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক পথে বরিশাল হয়ে নদী পথে ভোলার খেয়াঘাটে এসে পৌঁছান তিনি।
এ সময় সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে তিনি খেয়াঘাট থেকে শহরের আসার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
পরে তার বাসভবনে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন পুলিশের একটি চৌকশ দল। সেখান থেকে দুপুরের পর গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার উত্তর দিঘলাদী ইউনিয়নে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
তিনদিনের সফরে আসা তথ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা প্রেসক্লাব পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন। বিকালে নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করবেন। শুক্রবার সকালে বিজেপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় ও বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।