রোববার (৩ মে) সকালে উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ফরিদুল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া এলাকার বাসিন্দা।
কীভাবে ধরা পড়লো অভিনব এই কৌশল
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। এসময় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর একটি বাস থামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়।
প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়া গেলেও, ফরিদুলের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন কর্মকর্তারা। পরে তার পায়ে থাকা স্যান্ডেল খুলে পরীক্ষা করা হলে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য—স্যান্ডেলের সোলের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন খোপে লুকানো ছিল ইয়াবা।
কত ইয়াবা উদ্ধার
তল্লাশিতে দুই পায়ের স্যান্ডেলের সোলের ভেতর থেকে মোট ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম। একইসঙ্গে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
কোথা থেকে আসছিল মাদক
ডিএনসি বগুড়া কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমান জানান, ফরিদুল কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে বগুড়ায় নিয়ে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। আগে ব্যাগ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে মাদক বহনের ঘটনা দেখা গেলেও, এবার স্যান্ডেলের সোল ব্যবহার করায় নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
কঠোর নজরদারির বার্তা
ডিএনসি জানিয়েছে, মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক পাচারের এমন অভিনব কৌশল প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, মাদক পাচারকারীরা ধরা এড়াতে প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে ক্রমেই চতুর হয়ে উঠছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণই এমন ‘অদৃশ্য পাচারপথ’ ভেঙে দিতে পারে।