বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন অনুমোদন চেয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৭ এপ্রিল ওই চিঠি বাণিজ্য ছাড়াও এনবিআরের দপ্তরে পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী পোশাক খাতে বিদেশি ক্রেতারা এফওসি ভিত্তিতে রপ্তানি আদেশ দিয়ে থাকেন। বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের সময়ে এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে কোনো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে হয় না। ফলে সম্পূর্ণ রপ্তানি আয় দেশে থেকে যায়। একইসঙ্গে এ পদ্ধতিতে আমদানি করা কাঁচামাল ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ডেড গুদাম ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধিত ও নিরীক্ষিত হওয়ায় শুল্ক ফাঁকি বা অর্থ পাচারের ঝুঁকি থাকে না।
তবে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এ নতুন কারখানার উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে ছয় মাসের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা প্রাসঙ্গিক এসআরওতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো এফওসি সুবিধা পাচ্ছে না। এর ফলে নতুন রপ্তানি আদেশ গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে উদাহরণ হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। যেখানে গাজীপুরের মেসার্স এনজেল গ্রেস ফ্যাশন লিমিটেডের কথা তুলে ধরা হয়। যারা সম্প্রতি লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা। প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ১৬ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলারের এফওসি ভিত্তিক রপ্তানি আদেশ থাকলেও আমদানি জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং সেখানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে চিঠি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে আমদানিনীতি অনুযায়ী নতুন কারখানাগুলোকে এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দিতে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ।