বুধবার (২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫১তম সভায় আলোচ্য সময়ের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে নগদ প্রবাহে ব্যাপক উন্নতি কোম্পানির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা ঋণাত্মক ছিল। মূলত গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বৃদ্ধি এবং দক্ষ তারল্য ব্যবস্থাপনার ফলে নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ নগদ সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে ওয়ালটন। যদিও ভ্যাট হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য উৎস থেকে করযোগ্য আয় বাড়ায় সরকারি কোষাগারে কর ও ভ্যাট বাবদ পরিশোধ বেড়েছে, তথাপি কার্যকর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে কোম্পানির তারল্য পরিস্থিতি এখন বেশ শক্তিশালী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ (দ্বিগুণ) করায় বিক্রয় ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাহকদের ক্রয় সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি।
তথ্যানুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ৩য় প্রান্তিকে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। একই সময়ে পুনর্মূল্যায়ন ব্যতীত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে ২৬৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়নসহ ৩৬৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
ওয়ালটন হাই-টেক কর্তৃপক্ষ জানায়, রিবেট কাঠামো পুনর্গঠন ও পরিবেশকদের জন্য কৌশলগত প্রণোদনা চালুর ফলে বাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আগামী প্রান্তিকেও মুনাফা ও অন্যান্য সূচকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়ে আশাবাদী কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।