এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম যাতে আকস্মিকভাবে বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক হেলাল আহমেদ খান জনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে জনতা ব্যাংককে সহায়তা দেওয়া হবে কিনা, তা অনেকটাই সরকারের সদিচ্ছা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সময় চাওয়ার ঘটনায় ধারণা করা যায়, সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে সরকার ও দেশের অর্থনীতি কতটা বাস্তব সুবিধা পাচ্ছে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু মূলধন সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সুশাসন, জবাবদিহি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।’
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জনতা ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯৭৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে চারটি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং আবুধাবিতে একটি প্রধান নির্বাহী কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিচ্ছে।
বর্তমানে আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ রেমিট্যান্স-সংশ্লিষ্ট গ্রাহক, প্রায় ৭০ হাজার আমানত হিসাবধারী এবং প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ঋণগ্রহীতাকে সেবা দিচ্ছে জনতা ব্যাংক। বাংলাদেশ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত ২০ জন এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৫ জনসহ মোট ৯৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করছেন। ব্যাংকটি রেমিট্যান্স, ঋণ, বৈদেশিক ব্যাংক গ্যারান্টি, ডলার বিনিয়োগ ও প্রিমিয়াম বন্ড বিক্রিসহ বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে ইউএই কার্যক্রমে আমানত, ঋণ বিতরণ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।