নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে পতিত জায়গায় কৃষি অফিসের পরামর্শে দুই বছর আগে শজনে গাছের ডাল রোপণ করেন উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের কৃষক মো. শামসুর রহমান। সেখানে মোট ১৫০টি ডাল রোপণ করেন তিনি। সেসব গাছে এখন ঝুলছে জনপ্রিয় মৌসুমি সবজি শজনে-ডাঁটা।
নিজের পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীর চাহিদা পূরণ করে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে গাছ থেকে শজনে সংগ্রহ করছেন শামসুর রহমান। এসময় কথা হয় তার সঙ্গে।
শামসুর রহমান জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বছর আগে সরকারি সড়কের পাশে পতিত জমিতে ১৫০টি শজনের ডাল রোপণ করেন তিনি।
প্রথম বছরই গাছে ফুল আসে তবে আশানুরূপ সবজি হয়নি। এবছর প্রত্যেক গাছে শজনে ধরেছে। এত বেশি শজনে ধরেছে যে ভারে গাছের ডাল নিচু হয়ে পড়েছে। পাতাহীন গাছে কেবল ডাঁটা। প্রথম দিকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।
এখন দাম কমছে। তবে দাম কমলেও এখন ওজন বেশি বলে জানান তিনি।
শামসুর রহমান আরো জানান, তুলারামপুর গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পাইকারি দামে শজনে কিনে শহরে বিক্রি করছেন। এছাড়া গ্রামের মানুষ সেখান থেকে কম মূল্যে শজনে কিনতে পেরে অনেক খুশি। তার লাগানো শজনে দেখে অনেকেই সড়কের পাশে সবজি লাগাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
চাচড়া গ্রামের লিপু খান বলেন, ‘আমি ভ্যান চালাই। এই পথ দিয়ে অফিসে যাতায়াত করি। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে শজনে ডাঁটা পাওয়া যায়। আমি মাঝেমাঝে এখান থেকে শজনে কিনে নিয়ে যাই। এই শজনে খুবই সুস্বাদু।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর আমিও বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে কিছু শজনে গাছ লাগাবো, যাতে আর কিনে খাওয়া না লাগে।’
শামসুর রহমানের মতো অনেকেই সড়কের দুই পাশে শজনে গাছ লাগিয়েছেন। পতিত জমিতে এসব শজনে গাছ থেকে একদিকে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে সেগুলো বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।
তুলারামপুর গ্রামের টিটো রহমান বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে সরকারি রাস্তার পাশে পাঁচটি গাছ লাগায়ছিলাম। গত বছর গাছগুলোতে ভালো শজনে হয়েছিল। এবছরও গাছ শজনে ডাঁটায় ভরে গেছে। পরিবারের চাহিদা পূরণের পর এই সবজি বাজারেও বিক্রি করছি।’
এদিকে, সড়কের পাশে কৃষকদের শজনে লাগানোর জন্য কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি অফিসের মাধ্যম উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পতিত জমিতে প্রায় আট হাজার শজনে গাছ লাগানো হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের সবজি শজনে। উপজেলার অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা শজনের আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে অনাবাদি জমিতে শজনের ডাল রোপণের মাধ্যমে তাদের আয় বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, গতবছর আমরা প্রায় আট হাজার গাছ লাগিয়েছিলাম। এবছরও গাছ লাগানো প্রক্রিয়া চলমান। গত দুই বছরে যেসব শজনের ডাল রোপণ করা হয়েছে, সেগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। বাজারে এর দাম থাকায় কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। একইভাবে তারা পারিবারের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ করছেন। ###