শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হবে।
ব্যারিয়ার হ্রদ কী?
ব্যারিয়ার হ্রদ হলো এমন এক ধরনের জলাধার, যা সাধারণত কোনো নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গেলে সৃষ্টি হয়। পাহাড়ধস, তুষারধস বা পাথরের স্তূপ নদীর গতিপথ আটকে দিলে সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে পানির চাপ বেড়ে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যে ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দেয়, তার পেছনেও এমন একটি ব্যারিয়ার হ্রদকে দায়ী করা হচ্ছে।
তুষারধসের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী ভোতি কোশি নদীর শাখানদী লেহেন্দে নদীর একটি অংশ আটকে গিয়ে ব্যারিয়ার হ্রদের সৃষ্টি হয়। পরে নদীর পানির প্রবল চাপে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি লেহেন্দে নদী হয়ে ভোতি কোশি নদীতে প্রবেশ করে। এর ফলে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী গিরং এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
ভয়াবহ ওই বন্যায় রাসুয়া ও গিরং এলাকায় প্রায় ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হড়পা বানের পানির সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে রাসুয়া, গিরং এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক চাপা পড়েছে। নেপালে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।
আবারও বড় বিপদের আশঙ্কা
নতুন করে যে ব্যারিয়ার হ্রদটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি গত ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদটির আরও উজানে তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।
চীনা কর্তৃপক্ষের ধারণা, বর্তমানে নতুন হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা রয়েছে। এরই মধ্যে হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদটির পানির স্তর এবং আশপাশের ভৌগোলিক পরিবর্তনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা গ্রামগুলোও খালি করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং ও চেংদু থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। নতুন হ্রদটি ভেঙে পড়লে আবারও বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিব্বতের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান