র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়ার সদস্যরা পৃথক দুটি অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. জেলাল হোসেন (৪২) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৩৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি বসতবাড়িতে পূর্বের পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্তরা বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম মমেনা বেগম ও তার মেয়ে শেফালী বেগমের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এক পর্যায়ে জেলাল হোসেন শেফালী বেগমকে মারধর শুরু করলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মমেনা বেগম। তখন অন্য আসামিরা তাকে চেপে ধরে রাখে এবং জেলাল হোসেন তার মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন মমেনা বেগম এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হয় ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (মামলা নং-১৪), যেখানে পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে র্যাব-১২ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামিরা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পাঁচপাইকা হরিতলা এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।
এরপর র্যাব-১২ এর অধিনায়কের নির্দেশনায় এবং র্যাব সদরদপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সহযোগিতায় ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ভোরে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সকাল আনুমানিক ৬টায় পাঁচপাইকা হরিতলা প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে মোঃ জেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে একই এলাকা থেকে মোছা. স্বপ্না বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।”
এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে, যদিও তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।