সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) ও সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিমকে (১৪)। তাদের বাড়ি গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামে।রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০২১ সালে ২৬ জুন বিকালে রেজোয়ান আল আবির তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিম তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে রেজোয়ান আল আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে। সন্ধ্যায় ঐ ফোন থেকে আবিরের পিতা মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের কাছে ইমু নাম্বার থেকে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাদাঁ না পেয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয় হত্যাকারী দুই কিশোর বন্ধু।
বিষয়টি দ্রুত আবিরের পিতা পরিবারকে মুঠোফোনে জানায়। জানানো হয় পুলিশকেও। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে। পরে তারা আবিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। রাতেই মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার নিহতের মা রোজিনা খাতুন ঐ দিন রাতেই গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার (মামলা নং-২৩) মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত নিহত আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা আর হামিমকে ৭ বছরের জেল ও ৫ লাখ দণ্ডাদেশ প্রদাণ করেন আদালত।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায় সাপেক্ষে সেই অর্থ নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলায় ১১ সাক্ষ্যি তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাড. খন্দকার আব্দুল মতিন।