জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীর ৬ উপজেলায় ৮৯০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।
জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। পূজা ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন মৃৎশিল্পীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে অনেকেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন।
পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আয়োজকদের ব্যস্ততা। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে।
নীলফামারী সদর উপজেলার প্রতিমাশিল্পী সুবাশ মালি বলেন, এ বছর ৬টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। দিন-রাত কাজ করছেন। পূজার আগেই সব প্রতিমার কাজ শেষ করতে হবে। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। আগের মতো লাভ হচ্ছে না।
আরেক প্রতিমাশিল্পী রুহিত পাল বলেন, মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ করতে ভালো লাগে। মায়ের রূপ অন্তরে ধারণ করে কাজ করি। ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কাজ করেও ক্লান্তি আসে না।
ডোমার উপজেলার প্রতিমাশিল্পী কালিপদ পাল প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। তিনি বলেন, রং, খড়, বাঁশ, মাটি, লোহাসহ প্রতিমা তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে এখন আর আগের মতো পোষায় না। তারপরও এটি আমাদের বংশগত ও জাতিগত কাজ। তাই করে যাচ্ছি।