পুলিশ জানায়, গত শনিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক নারীর অংশগ্রহণে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিতে প্রশ্ন তুললে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির আয়োজন করে জামায়াত। বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্টা কর্মসূচি দিলে দেখা দেয় চরম উত্তেজনা।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, মডেল মসজিদে রাজনৈতিক গোপন বৈঠক করছিল জামায়াতের নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কেন এই আয়োজন? বিষয়টি জানতে চাইলে খারাপ আচরণ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিকেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দেন। প্রতিবাদ করলে তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন বিএনপির ৫ নেতাকর্মী।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের দাবি, প্রশিক্ষণ চলার সময় নারী নেতৃবৃন্দের সাথে খারাপ আচরণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিকেলে তার প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করলে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের মারধর করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াতের ৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অনুমতি ছাড়াই মডেল মসজিদে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির আয়োজনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহজাহান আলীকে। বর্তমানে
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা আপন দুই ভাই নিহত হন।