গত রবিবার ১২ জুলাই শালিখা উপজেলা শিক্ষক কমচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ অফিস থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি ও প্রেসক্লাব শালিখা সভাপতি মোঃ বাহারুল ইসলাম জেলা শিক্ষক পরিবারের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করেন তিনজন সাহসী সাংবাদিকদের।
সাহসী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা স্মারক ও উপহার পেয়েছেন মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন ইকরাম ও সহ-সভাপতি সাহেব আলী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাব শালিখা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জিআর এম তারিক, দপ্তর সম্পাদক সুবীর কুমার ঘোষ, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হুরাইরা, লক্ষণ চন্দ্র মন্ডল, সুমন।
এসময় মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও প্রেসক্লাব শালিখা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী জানান, ১৯৮৯ সালে সাংবাদিকতা শুরু করি একসময় বাইসাইকেল চালিয়ে, সংবাদ হাতে লিখে ও ফ্লিম ক্যামেরায় ছবি তুলে সাংবাদিকতা করেছি। তখন টগবগে যুবক ১৯৯৪ সালে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে সুন্দরী রুপসী রেণু নামের এক মহিলা কে সবহারা পার্টির সোহেল গ্রুপের লোকজন হত্যা করে খালের কচুরিপানার তলে লাশ রেখে দেয়। তখন সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে মধুখালি গ্রামে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে ছিলাম। এছাড়াও তিনি বর্তমান সময়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করার জন্য প্রত্যেক সাংবাদিককে কৌশল অবলম্বন করতে পরামর্শ দেন।
মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় থাকাকালীন ২০০৪ সাল থেকে ফটো সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই পেশায় আশা, প্রথমে ছিলো ইয়াসিকা ফ্লিম ক্যামেরার বদৌলতে নেশা বা শখ। কিন্তু এই নেশা বা শখ ২০০৯ সালে পরিপূর্ণ সাংবাদিক পেশায় পরিণত করলো। একসময় শুরুর দিকে হাতে সংবাদ লিখে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠি আকারে পত্রিকা অফিসে লেখা পাঠানো, ফ্লিম ক্যামেরায় ছবি তুলা, বাইসাইকেল চালিয়ে ও পায়ে হেটে সাংবাদিকতা করেছি। ২০০৯ সালে মাগুরা জেলার চৌরঙ্গীর মোড়ের ২য় তলায় সাংবাদিক মিঠু বন্ধুর কাছে গিয়ে কম্পিউটারে লিখে মেইল পাঠাতে শুরু করলাম। আর বর্তমান সময়ে স্মার্ট টাচ মোবাইল ফোনের বদৌলতে সাংবাদিকতা পেশায় লেখা, ছবি ও ভিডিও পাঠানো সহজ হয়েছে। তবুও কিছু কিছু শক্ত কঠিন অপরাধ মূলক ক্রাইম নিউজ প্রকাশ করতে এখনও অনেক বেশির ভাগ সাংবাদিকরা ভয় পায়। তাই সাংবাদিকতা পেশায় আসতে হলে অবশ্যই বুকে তীব্র সাহস রাখতে হবে এবং সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্টস গুলো সংগ্রহ করে সাহসের সাথে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে এবং সাথে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তিনি আরও বলেন যখন কোন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ বা সংগ্রহ করার সময় বিপদে পড়লে অবশ্যই সহকর্মীরা পাশে থেকে প্রত্যেকে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। আর হিংসা, অহংকার ও অসৌজন্যমূলক আচরণ পরিহার করতে পরামর্শ দেন সহকর্মী সাংবাদিকদের। আর আজ তিনজন সাংবাদিককে সাহসীকতার অবদানের জন্য সম্মাননা ও উপহার প্রদান করার জন্য প্রেসক্লাব শালিখা সভাপতি বাহারুল ইসলাম সহ আয়োজক কমিটির সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ প্রদান করেন।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) মাগুরা জেলা শাখা সভাপতি ও প্রেসক্লাব শালিখা সভাপতি মোঃ বাহারুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে শালিখা উপজেলার বুনাগাতি সহ মাগুরা জেলার বিভিন্ন ধরনের দূর্নীতি ও অপরাধ মূলক সংবাদ তিনজন সাংবাদিক বিশেষ করে মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন ইকরাম ও সহ-সভাপতি সাহেব আলী সাহসীকতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করায় হামলা ও সরকারি আমলাদের দ্বারায় মামলার শিকার হয়ে ছিলো। পরবর্তীতে তারা তিনজন মিথ্যা মামলা প্রমাণ করিয়ে সাংবাদিক সমাজকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সারা বাংলাদেশের লোকজনকে দেখিয়েছে এবং শেষ মেষ সত্যর জয় হয়েছে। তাই আজ মাগুরা জেলা শিক্ষক পরিবার ও প্রেসক্লাব শালিখার পক্ষ থেকে তাদেরকে সামান্য টোকেন, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হলো। আর পরবর্তীতে সাহসীকতার সাথে যে সমস্ত সাংবাদিকরা সত্য ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করবে তাদেরকেও এই ধরনের সম্মাননা প্রদান করা হবে।