বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ।
নিহতরা হলেন- সনিয়া (২৬) ও তার ১০ মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত। সনিয়া শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ পয়লা গ্রামের আরফান আলী শেখের মেয়ে। নিহতের স্বামী মো. আবুল হোসেন টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের কারারক্ষী। তিনি দৌলতপুর উপজেলার খলসী গ্রামের বাসিন্দা। সনিয়া মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা যায়, শনিবার সকালে স্ত্রী সনিয়া ও ১০ মাস বয়সী মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন স্বামী আবুল হোসেন। টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আইল্যান্ডের উল্টো পাশ দিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন সনিয়া ও তার কোলে থাকা শিশু জান্নাত। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু জান্নাতও। দুর্ঘটনার পর বাসটি রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। পরে বাসটি উথলী এলাকা থেকে আটক করে বরংগাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ।
নিহতের স্বামী আবুল হোসেন বলেন, তিনি সাত দিনের ছুটিতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন। স্ত্রীর মাস্টার্স ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শনিবার সকালে পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলে কর্মস্থল টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে উল্টো পথে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
তিনি বলেন, বাসটি উল্টোপথে আসায় ভয় পেয়ে মোটরসাইকেল থেকে স্ত্রী কোলে থাকা শিশুসহ পড়ে যান। এ সময় বাসের আঘাতে স্ত্রী ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাদের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিও মারা যায়। বাসটি উল্টোপথে না এলে আজ স্ত্রী ও মেয়েকে হারাতে হতো না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে আইল্যান্ডের উত্তর পাশে মোটরসাইকেলটি যাওয়ার সময় আইল্যান্ডের উল্টো পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা নারী ও শিশুটি সড়কে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি উথলী এলাকা থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাম্মি বলেন, ওই নারীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। ১০ মাস বয়সী শিশুটি তখনও জীবিত ছিল। চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।