স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিস্থিতির সবচেয়ে দ্রুত অবনতি ঘটেছে সেপ্টেম্বরে। মাসের প্রথম ১৬ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৭০ জন। অথচ পুরো আগস্টে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন। অর্থাৎ অর্ধেক মাসেই সেপ্টেম্বর আগের পুরো মাসকে ছাড়িয়ে গেছে।
আগস্টে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরে সেই গড় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক ১ হাজার ৩১৭ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যুর গতিও বেড়েছে আরও দ্রুত। আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই মারা গেছেন ৭৪ জন। চলতি বছরের মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের বেশি ঘটেছে এই ১৬ দিনে।
ডেঙ্গুর বর্তমান বিস্তার শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে মোট ৩৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বিপরীতে দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ জন—যা মোট রোগীর প্রায় ৮০ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ৩৯৪ এবং খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ১৮৬, চট্টগ্রামে ১৭৭, রাজশাহীতে ১৫৩, ময়মনসিংহে ৮৩, রংপুরে ৫৩ ও সিলেটে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ডেঙ্গু এখন রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতেও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ৬ হাজার ১০৪ জন। জুলাইয়ে এক মাসেই সেই সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জনে পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনের ২১ হাজার ৭০ রোগী যোগ হওয়ায় সংক্রমণ বৃদ্ধির রেখা কতটা খাড়া হয়েছে, তা স্পষ্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫২ হাজার ৫৭৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তবে সরকারি হিসাবে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাই অন্তর্ভুক্ত হন। বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া বা শনাক্ত না হওয়া রোগী এতে না থাকায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্ণ বছরের হিসাবে ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ৪১৩ এবং ২০২৪ সালে ৫৭৫ জন মারা গিয়েছিলেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন; মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের। বর্তমান বছরের মোট সংখ্যা এখনো ওই বছরগুলোর তুলনায় কম হলেও সেপ্টেম্বরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বড় সতর্কবার্তা।
এখন প্রয়োজন এলাকা ধরে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত অভিযান এবং হাসপাতালগুলোতে শয্যা, পরীক্ষা ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্রস্তুতি বাড়ানো।