ঘটনার পর যাত্রীদের তৎপরতায় ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, শুধু ক্যানটিন বয় নয়—ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যসহ আরও কয়েকজন জড়িত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাচ্ছিলেন ওই নারী। ট্রেনটি নাটোর এলাকায় পৌঁছালে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন তাকে ট্রেনের ক্যানটিনে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকার শুনে ট্রেনের যাত্রীরা ছুটে আসেন। পরে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগে পুলিশের নাম, তদন্তে গড়িমসি নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার পর মামলার আসামিদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, মামলায় পুলিশ সদস্যদের নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন বিস্তারিত তথ্য দিতে গড়িমসি করেন।
তবে পরে ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যও জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, চলন্ত ট্রেনের ক্যানটিনে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ট্রেনের নিরাপত্তা ও ক্যানটিন ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।