নগরীর খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা
লায়লা খাতুন বলেন, আমার ছেলে শেখ মোহাম্মাদ আয়মান (১১) পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর চতুর্থ শ্রেণীর ডি সেকশনের ছাত্র, রোল নম্বর- ২৫১০৯। একই কলেজের ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা সিনিয়র ছাত্র প্রায় দুমাস যাবত আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মাদক কেনার জন্য বাধ্য করে এবং তাকে জোর করে মাদক সেবন করায়। এমনকি আমার সন্তানকে প্রায় সময় জোর করে সিগারেট খাওয়ায়। ওই সিনিয়র ছাত্রদের ভয়ে আমার ছেলে আমাদের কিছুই বলতো না। গত ২ আগস্ট সকাল সোয়া ৯ টার দিকে স্কুল ছুটি শেষে অজ্ঞাতনামা একজন ছাত্র মাদক কেনার জন্য আমার ছেলেকে ৮৬০ টাকা দেয়। পরবর্তীতে আমার ছেলে বাসায় আসার পথে উক্ত অজ্ঞাতনামা ছাত্রদের দেওয়া টাকা দেখায় এবং বলে মাদক কেনার জন্য অজ্ঞাতনামা ছাত্ররা আমার ছেলেকে দিয়েছে। তাৎক্ষণিক আমি আমার ছেলেকে কেন দিয়েছে বললে, আমার ছেলে আমাকে বিস্তারিত সবকিছু বলে।
আয়মান জানায়, ওই ছাত্রদের হুমকির মুখে আমার ছেলে বাসা থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তারিখে প্রায় নগদ এক লক্ষ টাকা এবং ৬ আনা ওজনের দুইটি স্বর্ণের আংটি অজ্ঞাতনামা ওই ছাত্রদের দেয়।
বিষয়টি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মুনির আব্বাস, পিএসসি, পদাতিক এবং অন্যান্য শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করি। পরবর্তীতে স্কুলের শিক্ষকরা আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দিবে বলে আশ্বস্ত করে।
কিন্তু পরের দিন ৩ আগষ্ট সকাল ১০ টার দিকে টিফিন টাইম শুরু হলে আমার ছেলে ক্লাসের বাইরে সিঁড়ি থেকে নামার সময় অজ্ঞাতনামা উক্ত ছাত্ররা কৌশলে সকল শিক্ষকদের ফাঁকি দিয়ে আমার ছেলেকে সিঁড়ি থেকে তিনতলায় ওয়াশ রুমে নিয়ে গিয়ে মাদক চায়।
আমার ছেলে মাদক দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ব্লেড দিয়ে শরীরের ডান, বাম পায়ের উরু এবং বুকের বাম পাশে আঘাত করে। যার ফলে পরিহিত শার্ট এবং প্যান্ট কেটে যায়। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত তার শরীরের কোথাও ক্ষত হয়নি।
ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থীরা বলে-ভবিষ্যতে তাদের অবাধ্য হলে এবং বিষয়টি কাউকে অবগত করলে প্রানে মেরে ফেলা হবে।
পরবর্তীতে ওই ছাত্ররা আমার ছেলেকে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ১০ পিচ ইয়াবা তাদের এনে দেওয়ার জন্য বলে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অজ্ঞাতনামা একজন আমার ছেলে আয়মানকে একটি চিরকুট প্রদান করে, যার মধ্যে ০১৯৬৭৬৩৮৪৯৫ নম্বরটি লেখা ছিল।
উক্ত বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রশাসনকে অবগত করি এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. বেনিয়াজ জামান আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। পরবর্তীতে উপায়ন্তর না পেয়ে আমার ছেলের জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করি। এছাড়া গত ০৬/০৮/২০২৬ ইং তারিখ (বৃহস্পতিবার) পুলিশ তদন্ত শুরু করার সময় পুলিশের অনুমতি না নিয়ে স্কুলের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেবেকা ইয়াসমিন আমার অসুস্থ বাচ্চাকে এক ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলে যে 'তোমার বাবার নাকি দুই বিয়ে, তোমার বাবার আরেকটা ছেলেসন্তান আছে'। এসব উল্টাপাল্টা কথা বলে আমার ছেলেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে দেয়। আমার ছেলে ওসি তদন্ত স্যার এর সামনেই উপাধক্ষের রুমে এসে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।
আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি ওই বিদ্যাপীঠের সিনিয়র ছাত্রদের দ্বারা ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শারিরীক ও মানষিকভাবে নির্যাতিত হয়। ছোট বাচ্চাদেরকে জোর করে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে শারিরীক নির্যাতন করা হয়। শিশুদেরকে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং মাদকদ্রব্য আনতে বাধ্য করায়। শিশুদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি পরিত্যাক্ত ভবনে নিয়ে গিয়ে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে।
আর এসব অনৈতিক কাজের সাথে নবম, দশম, একাদশ শ্রেণীর কতিপয় ছাত্র জড়িত।
আমি আপনাদের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা ফেরৎ চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানান তিনি।