সোমবার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারীরা বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বগুড়া ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
পদত্যাগকারীরা হলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি, অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, এপিপি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান সবুজ।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসব আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দীন সাইফুল, অ্যাডভোকেট দলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আল-আমিনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব আবারও জুলাই-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শাফিকুর রহমান শাফির ভাষায়, এসব ঘটনা সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এবার আদালতকেন্দ্রিক প্রতিবাদ—বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগ নতুন করে আলোচনায় এনেছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় আইন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন।