বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামি ধনঞ্জয় কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদেশের পর শুনানির বিষয়ে প্রসিকিউটর জিএইচ তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, মামলার একজন আসামি ধনঞ্জয় কুমার পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করেছেন।
আন্দোলন দমনে সহায়তা ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন সম্পর্কে প্রসিকিউটর জিএইচ তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে তারা আন্দোলন দমনে সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।
মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, এতদিন মামলাটি বিবিধ মামলা (মিসকেস) হিসেবে তদন্তাধীন ছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ফরমাল চার্জ আকারে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যতালিকায় দুই নম্বরে ছিল। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আদেশ দেন।
কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে জাহাঙ্গীর আলম
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমলাদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।