স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুড়পাড়ার পোস্ট অফিস মোড় থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে সোনামিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তার মধ্যে মাত্র ২০০ ফুট অংশে ফ্ল্যাট সলিং করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ ফুট কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রাস্তাটির পাশেই রয়েছে সিসিএস কিন্ডার গার্ডেন নামে একটি কেজি স্কুল এবং একটি মডার্ন নূরানী হাফেজি মাদ্রাসা। কেজি স্কুলটিতে প্রায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এছাড়া হাফেজি মাদ্রাসায় প্রায় ৬০ জন শিশু কোরআন হিফজ করছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলে রাস্তাটি দেখে মনে হয় যেন একটি উন্মুক্ত জলাশয়। কাদার কারণে পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন যানবাহন মাঝপথে আটকে যায়। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে গিয়ে জামা-কাপড়, বই-খাতা নষ্ট হয়। অনেক সময় অভিভাবকদের শিশুদের কোলে করে রাস্তা পার করাতে দেখা যায়।
এলাকার চাকরিজীবীদের দুর্ভোগও কম নয়। কাদামাখা রাস্তা পার হতে গিয়ে অনেকেই প্যান্ট ও অফিস ব্যাগ হাতে নিয়ে চলাচল করেন। পোস্ট অফিস মোড়ে পৌঁছে টিউবওয়েলের পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করে অফিসের পোশাক পরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক শওকত আলী অঙ্কুর বলেন, “রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্কুল-মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
কেজি স্কুলের ছাত্র সারজিন বলে, “বৃষ্টি হলে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় কাদায় পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়।”
কেজি স্কুলের ছাত্রী মাইসা খাতুন বলেন, “জুতা পরে হাঁটা যায় না। কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়।”
বৃদ্ধ আব্দুর কাদের বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই অবস্থা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার বলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।”
চাকরিজীবী শামিম হোসেন বলেন, “অফিসে যেতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।”
কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটির কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ব্যাহত হয়। দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমবে।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে রাস্তাটির সংস্কার ও চলাচল উপযোগী করার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।