রজনীগন্ধা মূলত রাতে ফুটে চারদিকে মিষ্টি সুবাস ছড়ায় বলেই এ ফুলের নামকরণ হয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিয়ে বা বাসরঘর সাজানো, মালা ও পুষ্পস্তবক তৈরিতে এই ফুলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে বাজারে এ ফুলের চাহিদাও বেশ বেশি।
জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রজনীগন্ধা ফুল চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষক আক্তারুজ্জামান যুদ্ধ। সরেজমিনে দেখা গেছে, তার বাগানজুড়ে সাদা রজনীগন্ধা ফুল ফুটে আছে এবং চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি সুবাস।
ফুল বাগানের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মহর আলী জানান, রজনীগন্ধা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। খুব বেশি সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। একবার গাছ লাগালে সারা বছরই ফুল পাওয়া যায়। ফুলের স্টিক কেটে নেওয়ার পর সেখান থেকে আবার নতুন স্টিক গজায়।
তিনি বলেন, প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে মাত্র ছয় মাসে চার লাখ টাকার বেশি ফুল বিক্রি করা হয়েছে এবং সারা বছরই বিক্রি চলবে। শুরুতে ফুলের স্টিক বিক্রি করা হলেও এখন ঝরা ফুল বা পাপড়ির চাহিদা বেশি হওয়ায় সেটিই বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।
মহর আলী আরও জানান, প্রথমদিকে প্রতি স্টিক ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আর ঝরা ফুল প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমানে রমজান মাসে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় আপাতত ফুল তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের পর আবার বিক্রি শুরু হবে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, রজনীগন্ধা চাষে অল্প সময়ে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব এবং উৎপাদন খরচও কম। সারা বছরই এই ফুলের বাজার রয়েছে। বাসাবাড়ি বা অফিসে সুগন্ধ ছড়াতে অনেকেই রজনীগন্ধার স্টিক ব্যবহার করেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মালা, পুষ্পস্তবক ও বাসরঘর সাজাতেও এই ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে জীবননগর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফুল চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।