এখন লাউয়ের ব্যাপক চাহিদ, উৎপাদন খরচ কম ও সময় কম লাগার কারনে বাণিজ্যিকভাবে লাউয়ের চাষ শুরু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষি জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা।
লাউ চাষে রাসায়নিক সার ও শ্রমিক খরচ অনেক কম। বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। মাটি থেকে ৫ ফুট উঁচু করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। এটি তার ও সুতালি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেখানে ৩-৪ বছর লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব।
বিশেষ করে এই উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্দোক্তারা মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে ঝুঁকছেন বেশি।
জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্দোক্তা কৌশিক রহমান দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করেছেন।লাউ চাষে গত বছর অতি বৃষ্টির কারনে লোকসান হলেও এবার সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। সরজমিনে তার লাউয়ের ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাউ। লাউ কার্টুনে ভর্তি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতি কার্টুনে ৩০ টি লাউ ভর্তি করা হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টুন করে লাউ বাজারজাত করছেন।
তরুণ কৃষি উদ্দোক্তা কৌশিক রহমান জানিয়েছেন, দেড় বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করতে মোট ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লাউ গাছের গোড়ায় মাত্র ৫ হাজার টাকার সার দেওয়া হয়েছে। ময়না জাতের এই লাউ গাছে মাত্র ৫২ দিন পর থেকে ফলন ধরা শুরু হয়। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টুন লাউ ঢাকাতে পাঠানো হয়। কয়েকদিন পর থেকে লাউয়ের ফলন আরও বাড়বে। সব খরচ খরচা বাদ দিয়ে কার্টুন প্রতি এখন ১ হাজার টাকা থাকে। ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে টাকা পাঠিয়ে দেয়।
তিনিও আরও জানিয়েছেন, এভাবে ১ মাস ধরে লাউ বাজারজাত করতে পারবো। তারপর আবার লাউয়ের নতুন চারা লাগানো হবে। এমন বাজার থাকলে মাসে ১ লক্ষ টাকা আয় হবে। বাজার ভালো হলে এর চেয়েও বেশি আয় করা যাবে।অনেক ফসল চাষ করেছি তারমধ্যে এটি একটি লাভজনক চাষ। কৌশিক রহমানের মত এখানকার অনেক চাষি লাউ চাষ করে সফল হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, জীবননগরে অনেক জায়গায় বানিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্দোক্তারা এই চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। লাউয়ের নতুন জাত, লাউ গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।