জার্মানির দাবি, মামলা করার আগে নিকারাগুয়া কোনো আইনি বিরোধের অস্তিত্ব যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। পাশাপাশি মামলার কিছু অংশ আইসিজের এখতিয়ারের বাইরে বলেও দাবি করেছে দেশটি।
নিকারাগুয়া অভিযোগ করেছে, গাজায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকার পরও ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে জার্মানি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে অর্থায়ন বন্ধ করেও মানবিক সংকট আরও বাড়ানোর অভিযোগ করেছে দেশটি।
জার্মানি ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২৫ সময়ে ইসরায়েলের প্রধান প্রচলিত অস্ত্র আমদানির ৩১ শতাংশ জার্মানি থেকে এসেছে।
এদিকে জার্মান সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৭৯৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইউরোর সামরিক রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বার্লিন। ২০২৫ সালের পুরো বছরে অনুমোদিত ২০১ মিলিয়ন ইউরোর তুলনায় এটি প্রায় চার গুণ।
জার্মানি আরও যুক্তি দিয়েছে, মামলায় ইসরায়েল একটি অপরিহার্য তৃতীয় পক্ষ। কারণ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ ছাড়া জার্মানির দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে নিকারাগুয়ার দাবি, মামলাটি ইসরায়েলের দায় নয়, বরং জার্মানির নিজস্ব কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার দায়িত্ব নিয়ে।
আইসিজেতে শুনানি চার দিন চলবে। মঙ্গলবার নিকারাগুয়া জার্মানির আপত্তির জবাব দেবে। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফায় যুক্তি উপস্থাপন করবে। আদালত পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
মামলাটি গ্রহণযোগ্য হলে চূড়ান্ত রায় দিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এফএস