সাধারণত লিওনেল মেসিদের প্রথম পছন্দ আকাশী-সাদা জার্সি। সেমিফাইনালেও তাদের এই হোম কিটই পরে নামার কথা ছিল। কিন্তু পরে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হওয়ায়, তারা ফিফার কাছে আবেদন করে আকাশী-সাদার বদলে অ্যাওয়ে কিট বেছে নিয়েছে। এর আগে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল গাঢ় নীল জার্সি।
২-১ গোলে জয়ের সেই ম্যাচে আরেকটি দুর্দান্ত গোল করেন ম্যারাডোনা। চার ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে তিনি পরাস্ত করেন গোলরক্ষক পিটার শিল্টনকে। যা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবেও মর্যাদা পায়। ১২ বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আবারও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এবারও গাঢ় নীল রঙের জার্সি গায়ে তোলে বাতিস্তুতা-সিমিওনেরা। নাটকীয় সেই ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় থাকার পর আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ইংলিশদের বিদায় করে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর লিওনেল স্কালোনির দল আরেকটি বিশ্বশিরোপার দ্বারপ্রান্তে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে আবারও ইংল্যান্ড। তবে ২১ বছর পর তাদের ফুটবল দ্বৈরথে দেখা হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার জার্সির ‘কুসংস্কার’ ফিরিয়ে আনায় দোষের কিছু দেখছেন না ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ থমাস টুখেল, ‘আমার ক্ষেত্রেও এরকম কোনো কুসংস্কার সম্পৃক্ত থাকলে আমি একই কাজ করতাম। তাই এই কৃতিত্ব তাদের দিতে হবে, যদিও আমি বিষয়টি জানতাম না।’
সর্বোচ্চ পর্যায়ের পেশাদার ফুটবলেও এমন কুসংস্কার শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে কাজ করে বলে মনে করেন টুখেল, ‘আমার রুটিনেও কুসংস্কার আছে। আমি আপনাদের সেটি বলতে পারব না, কারণ আরেকটি কুসংস্কার আছে যে, নিজের রীতিটা আপনাদের বলে দিলে তা আর কাজ করবে না। আমাদের এমন কিছু প্রাত্যহিক নিয়ম আছে যা সারাদিন আমাদের স্থির ও শান্ত রাখে, যার কোনো পরিবর্তন হবে না। অবশ্য আমাদের কিছু লাকি চার্ম (সৌভাগ্য-প্রতীকও) রয়েছে, উচ্চপর্যায়ের খেলাধুলায় এসব বিষয় খুবই স্বাভাবিক।’