বুয়েনস আইরেসজুড়ে অনেক সমর্থক কেইনের নাম কাগজে লিখে ফ্রিজারের বরফে রেখে দিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, এতে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় তারকার প্রভাব কমে যাবে। শুধু কেইনই নন, কেউ কেউ গোলরক্ষক কিংবা জুড বেলিংহামের নামও একইভাবে ফ্রিজারে রেখে দিচ্ছেন।
আর্জেন্টিনায় এই ধরনের বিশ্বাসের নাম ‘কাবালা’। বহু বছরের এই ফুটবল সংস্কৃতিতে সমর্থকদের ধারণা, নির্দিষ্ট কিছু রীতি মেনে চললে দলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তারা কোনো অভ্যাস বদলাতে চান না।
অনেকেই প্রতিপক্ষের নাম উচ্চারণ করেন না। কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই জার্সি পরেন, যদিও সেটি ধোয়া হয়নি। কেউ একই আসনে বসে খেলা দেখেন, আবার কেউ প্রতিবার একই খাবার খেয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন। তাদের বিশ্বাস, রুটিনে পরিবর্তন আনলেই দলের জন্য অশুভ কিছু ঘটতে পারে।
১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের একটি রীতি আছে। আমরা প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় তারকা ও গোলরক্ষকের নাম একই কাগজে লিখে ফ্রিজারে রেখে দিই। এবার আমরা কেইনের নাম রাখব, কারণ সে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’
ফুটবল যেখানে আর্জেন্টিনায় ধর্মের মতো আবেগের বিষয়, সেখানে এমন কুসংস্কার সমর্থকদের মানসিক স্বস্তি দেয়। ম্যাচের ফল তাদের হাতে না থাকলেও এই রীতিনীতির মাধ্যমে তারা নিজেদের ভূমিকা আছে বলে বিশ্বাস করেন।
এই ‘কাবালা’র ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ কার্লোস বিলার্দো নানা ধরনের কুসংস্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। মাঠে নামার সময় খেলোয়াড়রা কোন ক্রমে প্রবেশ করবেন, সেটিও তিনি ঠিক করে দিতেন। বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রতিবার ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং এরপর ক্রুশচিহ্ন আঁকেন।
প্রযুক্তির যুগে কুসংস্কারের ধরনেও এসেছে নতুন মাত্রা। এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের বিশাল খণ্ডে আটকে থাকতে দেখা যায়। বাস্তবেও সেই ভাবনাই রূপ নিচ্ছে ফ্রিজারে নাম বন্দি করার রীতিতে।