সোমবার (২৭ জুলাই) জনমত ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।
খসড়া অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর তা অস্বীকার করলে কিংবা ওই ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি গোপন রাখলে তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে বিচার হবে।
প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আর গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছরের মধ্যেও তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
আইনে অনুমোদনহীন গোপন আটককেন্দ্র বা তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে গুমসংক্রান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও।
খসড়ায় ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধীনস্থদের গুমের নির্দেশ দিলে বা জেনেও তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে তাকেও মূল অপরাধের সমপরিমাণ শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গুমের পক্ষে কোনো ধরনের সাফাই গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গুমের মামলার বিচার হবে দায়রা জজ আদালতে এবং বিচারকাজ ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আদালত আরও ৩০ কার্যদিবস সময় বাড়াতে পারবেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া গুম নিয়ে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে গুমসংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণেরও প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, স্থান এবং সম্ভাব্য কারণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
সরকারের আশা, আইনটি কার্যকর হলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।