ডিএমপি জানায়, নগরীর নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় সফটওয়্যারভিত্তিক সিআইএমএস কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে ২০১৭ সালে এটি রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারণ করা হয়। নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০১৯ সালে চালু করা হয় সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ।
যমুনা টিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে সিআইএমএস ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ডিএমপির মতে, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সব বাসিন্দার এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের ভাষ্য, সিআইএমএসে সংরক্ষিত হালনাগাদ তথ্য বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তি শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে এ ডাটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিএমপি জানায়, ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএসের নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া যাবে। ফরম জমা দেওয়ার আগে একটি ফটোকপি নিজের কাছে সংরক্ষণ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন এলাকার সংশ্লিষ্ট থানায় পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে।
ডিএমপির তথ্যমতে, প্রতিটি থানা একাধিক বিটে বিভক্ত এবং প্রতিটি বিটে একজন করে বিট অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়োজনে নাগরিকরা সরাসরি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশি সহায়তা নিতে পারবেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, সিআইএমএসে নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার পরিচয় সহজেই যাচাই করতে পারেন। এতে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং বাড়িওয়ালারাও অপ্রয়োজনীয় হয়রানির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পান। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়ারাও সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত আইনি সহায়তা ও পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা পান।
ডিএমপির দাবি, নিবন্ধিত তথ্য ব্যবহার করে পলাতক অপরাধী শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হওয়ায় জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ছে।
নিরাপদ, স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে রাজধানীর সব বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যকে সিআইএমএসে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।