১,০০৬ জন মুসলিম প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে:
প্রতি ১০ জন মুসলিম ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ জনই গাজা সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী বা গ্রিন পার্টিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা হ্রাস: অতীতে প্রায় ৮০% মুসলিম ভোটার লেবার পার্টিকে সমর্থন দিলেও, বর্তমানে তা কমে মাত্র এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।
কৌশলগত ভোট: ৪৯% ভোটার লেবারকে হারানোর উদ্দেশ্যে গ্রিন পার্টিকে এবং ৬০% স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বার্মিংহাম, ব্ল্যাকবার্ন এবং নিউহ্যামের মতো মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে এই পরিবর্তনের ফলে নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের পথ সুগম হতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, ব্রিটিশ মুসলিমদের বড় একটি অংশ (৬৩%) তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের (১২%) চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো, যেখানে ৪৩% জাতীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেন।
যদিও জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও জনকল্যাণ মুসলিমদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, তবে সাধারণ ব্রিটিশদের তুলনায় তারা ৫ গুণ বেশি হারে ইসরায়েল-গাজা ইস্যুকে ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগজনক তথ্য
পলিসি এক্সচেঞ্জের এই প্রতিবেদনে কিছু স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক বিষয় উঠে এসেছে:
সাধারণ জনগণের তুলনায় মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া একটি অংশ মনে করেন মিডিয়া ও পার্লামেন্টে ইহুদিদের 'অতিরিক্ত প্রভাব' রয়েছে।
কট্টরপন্থা ও সহিংসতা: প্রায় ২৪% মুসলিম মনে করেন কুরআন অবমাননা বা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর ছবি প্রদর্শনের মতো ঘটনায় কিছু ক্ষেত্রে সহিংস প্রতিক্রিয়া 'গ্রহণযোগ্য'। এছাড়া হামাস এবং আইআরজিসি (IRGC) সম্পর্কেও ভোটারদের মতামত বিভক্ত।
প্রায় ১৪% মুসলিম ভোটার জানিয়েছেন যে তারা ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে অনিয়মের শিকার হয়েছেন, যা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ডক্টর রাকিব এহসান সতর্ক করে বলেছেন, “এই জরিপ ব্রিটিশ মুসলিমদের একটি অংশ এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ষড়যন্ত্রমূলক ইহুদি বিরোধী ধারণা এবং ধর্ম অবমাননার বিপরীতে কঠোর শাস্তির সমর্থন একটি স্থিতিশীল ও বহু ধর্মীয় সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।”
গাজা ইস্যু এখন ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, বরং ঘরোয়া রাজনীতিতে লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের একাধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নীতি-নির্ধারকদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে।