বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও হকিকুল ইসলাম।
গাইবান্ধার শিশু আদালত -২ এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্ত এডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপন, জিআর ও মোঃ হাসান আলী এবং জিআর মোহাম্মদ আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার জন্য ওই নির্দেশ দেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ সাইবারসহ একাধিক মামলায় অভিযান চালিয়ে হ্যাকার সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী, পলাশ রানা ও এনামুল হক নামের প্রাপ্তবয়স্ক ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেন। এরপর তার স্বজনরা আসামিদের জামিনে মুক্ত করতে অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপনের দ্বারস্থ হন। ২০২৪ সালে ২৩ অক্টোবর ৩ টি মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ৪ জন আসামিকে শিশু দাবি করে জামিনে মুক্ত করার অভিযোগ ওঠে জেলা বারের অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে। এর সাথে আদালতের নথি গায়ের ও আদেশ নামায় কাটাকাটির অভিযোগ ওঠে ওই আইনজীবির বিরুদ্ধে। পরে আদালতের অন্য আইনজীবী ওই জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আদালতের ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এর তদন্তভার দেয়া হয় গোবিন্দগঞ্জ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে। তিনি গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মূল অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মুহুরী হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করেন।
এদিকে, ওই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ব্রেঞ্জসহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের নির্দেশ দেন।
গাইবান্ধা জেলা বার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আলোচিত সাইবার হ্যাকার চক্রের প্রধান আসামী দুই সন্তানের জনক পলাশ রানাকে শিশু দেখিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে জামিন আদায়ের ঘটনায় জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট মো, শেফউল ইসলাম রিপনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও হকিকুল ইসলাম বলেন, জাল জন্মসনদের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক ৪ জন আসামিকে শিশু দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জামিনের ঘটনায় মামলার আদেশ হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, থানায় এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন আদেশ আসেনি। তবে আদেশ হাতে পাওয়া মাত্রই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।