শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।
নিহত লাইলি বেগমের মেয়ে জানান, আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিচড়ে মারধর করেন। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরোও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
নিহত লাইলী বেগমের ছেলে বলেন, আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল হাসপাতাল ঘুরছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যায়। মার সাথে শেষ কথাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, সামান্য ধানের খড় শুকানো নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লাইলী বেগমের ওপর চড়াও হয়। তারা ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার পর থেকে মূল আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশীদের কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে লাইলী বেগমের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ধামরাই থানার ওসি জানায়, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।