হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও সুভদ্রা মাতা রথে চড়ে মূল মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দির বা ‘মাসির বাড়ি’ গমন করেন। সেখানে কয়েকদিন অবস্থান শেষে পুনরায় মূল মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের এই শুভ যাত্রাকেই উলটোরথ বা বাহুদা যাত্রা বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসে এই যাত্রায় অংশগ্রহণ, রথের দড়ি টানা এবং দেবদর্শন অত্যন্ত পুণ্যজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পুরাণ অনুযায়ী, জগন্নাথ শব্দের অর্থ ‘জগতের নাথ’ বা বিশ্বজগতের অধিপতি। অনেক বৈষ্ণব আচার্য জগন্নাথ দেবকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সর্বজনীন রূপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ডান পাশে অবস্থান করেন শক্তি, ধৈর্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক বলরাম দেব এবং মাঝখানে থাকেন শুভশক্তি, করুণা ও মঙ্গলময়তার প্রতীক সুভদ্রা মাতা। এই তিন দেব-দেবীর একসঙ্গে রথযাত্রা ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, ঐক্য এবং মানবকল্যাণের বার্তা বহন করে।
উলটোরথ উপলক্ষে পাংশার পুরাতন বাজারে অবস্থিত রাধাগোবিন্দ ও শিব মন্দির প্রাঙ্গণ হতে উলটোরথ যাত্রা শুরু হয়ে পাংশা আদি মহাশ্মশানে এসে শেষ হয়।এ উপলক্ষে পাংশা ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্তরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রথযাত্রা শেষে বিশেষ পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও ভক্তিমূলক কীর্তনের আয়োজন করা হয়। অনেকেই বিশ্বশান্তি, দেশের কল্যাণ এবং সকল মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করেন।
পাংশা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, সনাতন ধর্মের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধেরও এক অনন্য নিদর্শন। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।