সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। পরে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শহীদ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
দুই ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড
আদালত সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ধারায় শহীদ শেখকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ১০ ধারায় তাঁকে আরও ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রতিটি ধারায় আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ জুলাই ফরিদপুরের একটি জুট মিলে কর্মরত ২০ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বোনকে উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করেন তাঁদের সহকর্মী শহীদ শেখ। পরে ভারতের বোম্বে শহরে তাঁদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় দুই তরুণীর বাবা ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সালথা থানায় শহীদ শেখ ও তাঁর স্ত্রীকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ অক্টোবর সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর আলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
স্ত্রী খালাস
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, শহীদ শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন। তবে অপর আসামি শহীদ শেখের স্ত্রীকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।