শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, কায়দা গ্রামের মো. মাহির ও মোছা. রুমা বেগমের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে মোছা. মুন্নি আক্তারের সঙ্গে নকলা উপজেলার জালালপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান ও মোছা. আম্বিয়া বেগমের ছেলে মো. আসিফের বিয়ের আয়োজন চলছিল। বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
পরে প্রশাসনের অভিযানিক দল কনের বাড়িতে পৌঁছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কনের বাবা মো. মাহিরকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে তাঁর কাছ থেকে লিখিত মুচলেকাও নেওয়া হয়।
বরপক্ষের ছাপানো দাওয়াতপত্র অনুযায়ী, শনিবার (২৫ জুলাই) জালালপুর মন্ডলপাড়ায় বরের নিজ বাড়িতে ভৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে তার আগেই কনের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে প্রশাসনের তৎপরতায় ভেস্তে যায় পুরো আয়োজন।
অভিযানকালে নকলা থানা পুলিশের সদস্য, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পক্ষে সাদিকুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা তথ্য পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সন্তানদের আইনসম্মত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।