স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ মিললেও মিলছে না কোনো সরকারি ওষুধ। শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে হাসপাতালে আসা রোগীদের। ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন নিজেই রুগী। যেখানে গত দুই বছর ধরে নিয়মিত সরকারি ওষুধ সরবরাহ নেই। মাঝে মাঝে অল্প কিছু ওষুধ আসলেওভতা চাহিদার তুলনায় শূন্যের কাছাকাছি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
শুধু ওষুধের অভাবই নয়, ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে চৌহাট, সানোড়া ও কুল্লা—এই তিনটি কেন্দ্রের অবস্থা এখন চরম জরাজীর্ণ। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে, দেয়ালের প্লাস্টার খসে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে জমে পানি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভেতরেই কোনোমতে চলছে চিকিৎসাসেবা। নতুন ভবনের নথিপত্র চূড়ান্ত হলেও এখনো মেলেনি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ। এছাড়া বেলিশ্বর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ নান্নার ও কুশুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে।
জরাজীর্ণ ভবন আর ওষুধের সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চেপে বসেছে জনবল সংকট। নিয়ম অনুযায়ী ১৫৫ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২৭ জন। সবচেয়ে বড় সংকট উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদের। ৯টি কেন্দ্রের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৪ জন। সংকট যে চরমে, তা স্বীকার করেছেন খোদ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রহিমা বেগম নামে এক নারী জানান, বাচ্চাদের ঠান্ডা জ্বরের চিকিৎসা দিতে নিয়ে এসেছেন। প্রেশক্রিপশন পেয়েছেন কিন্তু কোন ওষুধ পাননি। তিনি আরোও বলেন, আমরা সরকারি ওষুধের আশায় এখানে আসি, সংসারের যে খরচ বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হয়।
আসাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, শুধু ওষুধ না এখানে ডাক্তাররাও সময়মত আসেন না, আবার আসলেও আগেই চলে যান। ওষুধ তো পাইনা প্রায় দুই বছর ধরে।
এদিকে এবিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল বলেন, ওষুধের পাশাপাশি আমাদের জনবল সংকট আছে। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই বরাদ্দ সংকটের সমাধান হবে।