তিনি বলেন, গাবতলীর বাগবাড়ি এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা সড়কে সাময়িকভাবে ইট বিছানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুক্রবার (১২ জুন) বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে তার পৈতৃক ভিটায় খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। রাষ্ট্রপ্রধানের সফরকে ঘিরে স্বাভাবিক নিয়মে দুই সপ্তাহ আগে থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত চলাচলপথের একটি অংশ তখনও কাঁচা ছিল। নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়কটি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তবে ওই সড়ক পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার তখনও স্থায়ী কাজ শুরু করেননি।
মীর শাহে আলম বলেন, “নতুন কোনো বরাদ্দ বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে প্রকল্পের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সাময়িক সমাধান হিসেবে ইট ভাড়া নিয়ে সড়কে বিছানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার পর স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরুর সুবিধার্থে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়। গত ৯ জুন থেকে সড়কটির পাকাকরণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি সাময়িক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, একটি ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়াই ‘প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ভয়াবহ দুর্নীতি ফাঁস’ শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করেছে। এমন শিরোনাম তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবর্তে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, “সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো যাচাইকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়।”
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং সত্যনির্ভর সংবাদই মানুষের আস্থা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার চেয়ে বাস্তব তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।