শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এজেড এম রেজওয়ানুল হক।
সভায় বিসিএমসিএলের কর্মকর্তারা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে খনির বর্তমান উৎপাদন, ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, পরিবেশবান্ধব খনি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধান অতিথি ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সমন্বয়, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য এজেড এম রেজওয়ানুল হক বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, সমগ্র দেশের একটি কৌশলগত সম্পদ। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় দিনাজপুর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিসিএমসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে অতিথিরা খনির সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।