মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও নিজ কর্মস্থল উগলছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত চাকমা।
বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু করার পর হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে অফিসকক্ষের মেঝেতে পড়ে যান।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে সহকর্মীরা দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত প্রশান্ত চাকমা বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের নিউলাল্যঘোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং তেজেন্দ্র বিকাশ কার্বারির ছেলে।
উগলছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিরো কুমার চাকমা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যান।
এ সময় তিনি দেখতে পান প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত চাকমা মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের খবর দেওয়া হলে সবাই মিলে দ্রুত তাঁকে একটি টমটমযোগে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম নিউলাল্যঘোনায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশান্ত চাকমাকে হাসপাতালে আনা হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত মূল্যায়নের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত চাকমার আকস্মিক মৃত্যুতে উগলছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রিয় শিক্ষকের এমন অকাল বিদায়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের অনুভূতি দেখা দিয়েছে।
অনেকেই তাঁর কর্মনিষ্ঠা, শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার কথা স্মরণ করছেন।
দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আকস্মিক মৃত্যু শিক্ষা অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয় পরিবার তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।