বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে পরীক্ষা দিতে কলেজে এসে প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন ওই শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকরাও। একপর্যায়ে পুরো ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।
গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়, বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা কোনো প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি। পরে অভিযুক্ত কর্মচারীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বুধবার থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের দাবি, একজন কর্মচারীর প্রতারণা এবং কলেজ প্রশাসনের তদারকির ঘাটতির কারণে একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ তাদের জীবনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সময়মতো বিষয়টি যাচাই করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জানা গেছে, চলতি বছর মহাস্থান মাহীসাওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে প্রবেশপত্র জটিলতায় ১০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।