বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি জানান, আগামী সংসদ অধিবেশনে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো বগুড়া ও সংলগ্ন এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রতিরোধ, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে নাগরিক জীবনমান উন্নত করা।
খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা হবে।
এই কর্তৃপক্ষ গণশুনানি ও প্রাক-প্রকাশসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।
প্রস্তাবিত আইনে নদী-নালা, জলাশয়, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট ও ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া অননুমোদিত নির্মাণ, জলাধার ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল গঠন, উন্নয়ন ফি নির্ধারণ, ঋণ গ্রহণ এবং নিরীক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে ‘বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।