প্রিয় শিক্ষককে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে, করতালি, সম্মানসূচক স্যালুট ও বিদায়ী সংগীতের মধ্য দিয়ে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। পরে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেন।
রোববার সকাল থেকে বিপুল চন্দ্র দের বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রাত্যহিক সমাবেশে দেওয়া হয় সম্মানসূচক স্যালুট এবং পরিবেশন করা হয় বিদায়ী সংগীত।
পরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে বিদায়ী মানপত্র পাঠ, উত্তরীয় পরানো, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিপুল চন্দ্র দে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ২২ বছর গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় ১৫ বছর এ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন বিপুল চন্দ্র দে। গত ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান তিনি।
বিদায়ী অনুষ্ঠানের পর ঘোড়ার গাড়িতে প্রিয় শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ব্যতিক্রমী এই বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা।
বিদায়ী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে বলেন, শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপুল চন্দ্র দে দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, বিপুল চন্দ্র দে শুধু দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবকও ছিলেন। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তিনি শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।