সরকারের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনাটি যুক্তরাজ্য গমনেচ্ছু হাজার হাজার বাংলাদেশির জন্য একটি বড় সুসংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ জানান, যুক্তরাজ্যের বর্তমান আশ্রয় ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং এর দ্রুত সংস্কার জরুরি। সরকার যদি এই ব্যবস্থাকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারে, তবে অবৈধ পথে মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং বৈধ পথগুলোকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
আসছে তিনটি নতুন বৈধ পথ
জানা গেছে, অভিবাসীদের জন্য সরকার মূলত তিনটি নির্দিষ্ট নিরাপদ পথ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে:
১. শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ: শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ।
২. দক্ষদের কাজের সুযোগ: দক্ষ বা স্কিলড শরণার্থীদের জন্য বৈধ কাজের সুযোগ তৈরি।
৩. স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম: স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে স্পন্সরশিপভিত্তিক পুনর্বাসন কর্মসূচি।
চলতি বছরের শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন আবেদন প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী বছর থেকেই যোগ্য প্রার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবেন।
বৈধ পথ খোলার পাশাপাশি অভিবাসন নীতিতে বেশ কিছু কঠোরতাও আনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের (পিআর) অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা বাড়ানো। এছাড়া শরণার্থীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার অধিকার সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেবল আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিরাই তাদের পরিবারের সদস্যদের আনতে পারবেন।
সরকারের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার দলের ভেতরেই মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। দলের একাংশ এই নীতিকে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহনশীল ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন। শতাধিক সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগের বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, "বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতি দেশের দীর্ঘদিনের যে সহনশীলতা রয়েছে, তা বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" তাই তিনি নিয়ম ভাঙা ও অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। পূর্ব লন্ডনের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বলেন, "ছোট ছোট নৌকায় করে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসে, এটা শুধু তাদের জন্যই নয়, দেশের জন্যও বিপজ্জনক। সরকার অবৈধ পথ বন্ধ করে বৈধ পথ খুলে দিলে সেটিই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
অপর এক তরুণ প্রবাসী জানান, স্টুডেন্ট ও স্কিল্ড রুটে সুযোগ দেওয়া হলে যোগ্য মানুষ যুক্তরাজ্যে আসবে, যা প্রকারান্তরে ব্রিটেনের অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশে কঠোরতা এবং অন্যদিকে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বৈধ পথ সম্প্রসারণ— সরকারের এই দ্বিমুখী কৌশল যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে নতুন এই নীতির চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করছে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।