যুক্তরাজ্যের এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস (HMRC) কর্মরত অভিভাবকদের জন্য চাইল্ডকেয়ার খরচে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই স্কিমের আওতায় বার্ষিক ১ লক্ষ পাউন্ডের কম আয় করেন এমন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের লালন-পালনের খরচে সরকারি ভর্তুকি পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে হাজার হাজার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবারসহ সে দেশে বসবাসরত চাকুরিজীবী অভিভাবকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, অভিভাবকরা নার্সারি, চাইল্ডমাইন্ডার, ন্যানি কিংবা আফটার-স্কুল ক্লাবের খরচের বিপরীতে সরকারি সহায়তা পাবেন। যোগ্য অভিভাবকরা প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতি শিশুর জন্য ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত এবং বছরে সর্বোচ্চ ২,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ ফেরত পাবেন। তবে শিশু যদি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা ডিজেবল হয়, তবে সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। সেক্ষেত্রে প্রতি তিন মাসে ১,০০০ পাউন্ড এবং বছরে সর্বোচ্চ ৪,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ পাওয়া যাবে, যা বিশেষ সরঞ্জাম ক্রয় বা অতিরিক্ত সেবার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
সহায়তা পাওয়ার শর্ত হিসেবে অভিভাবকদের অবশ্যই ১৬ বছর বা তার বেশি বয়স হতে হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ কর্মঘণ্টার বিপরীতে বেতনভুক্ত কর্মী হতে হবে। যারা স্ব-নিযুক্ত (self-employed) অথবা গত ১২ মাসের মধ্যে নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন, তারাও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা বর্তমানে ওয়ার্কিং ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট বা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণ করছেন, তারা এই নতুন চাইল্ডকেয়ার স্কিমের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয়ে HMRC জানিয়েছে, যারা আগামী ৩১ দিনের মধ্যে নতুন কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন বা কর্মক্ষেত্রে ফিরছেন, তারাও আগেভাগেই আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে ১১ বছর এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক অভিভাবক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বাজারে চাইল্ডকেয়ারের এই সাশ্রয় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।