দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফারাজ স্পষ্ট করেছেন যে, রিফর্ম ইউকে পরিচালিত কাউন্সিলগুলোর মূল লক্ষ্য হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষা করা। তার দাবি, স্থানীয় জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো অমীমাংসিত রেখে অভিবাসীদের পেছনে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফারাজ আরও জানান, ল্যাঙ্কাশায়ারের মতো এলাকায় মানুষ যখন নানাবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সাবেক সেনা সদস্যরা গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তখন অবৈধ অভিবাসীদের পেছনে কোটি কোটি পাউন্ড খরচ করা অগ্রহণযোগ্য।
ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল 'ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম' এবং 'আফগান রিসেটেলমেন্ট প্রোগ্রাম' থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত 'হোমস ফর ইউক্রেন' প্রকল্পটি এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে। রিফর্ম ইউকের দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র ল্যাঙ্কাশায়ারেই এই খাতে বছরে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে, যা মূলত করদাতাদের অর্থ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে শুরু হওয়া সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় হাজার হাজার শরণার্থীকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ন্যাশনাল অডিট অফিসের তথ্যমতে, আফগান পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যয় ২০৩৩ সাল নাগাদ ৫.৭ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। রিফর্ম ইউকে মূলত এই বিশাল ব্যয়কে 'সরকারি অপচয়' হিসেবে চিহ্নিত করছে।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বৈধ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারণের কথা বললেও, ফারাজ তার অবস্থানে অনড়। স্থানীয় নির্বাচনে ১,৩০০ এর বেশি কাউন্সিলর এবং ১৪টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ফারাজ এখন ভোটারদের দেওয়া 'বাস্তব পরিবর্তনের' প্রতিশ্রুতি পূরণে মরিয়া। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নেট জিরো প্রকল্পের বিরোধিতা এবং প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনকেও রিফর্ম ইউকে তাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে।