সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক একজন আশ্রয়প্রার্থীকে হোটেলে রাখার পেছনে সরকারের দৈনিক গড়ে ১৭০ পাউন্ড এবং মাসে প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকে জরুরি ভিত্তিতে হোটেলের ব্যবহার শুরু হলেও বর্তমানে এটি বিলিয়ন পাউন্ডের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একটি সংসদীয় তদন্তে এই ব্যবস্থাকে অর্থের 'চরম অপচয়' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে সরকার এখন ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি নতুন কন্ট্রাক্ট কাঠামো চালু করতে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো হোটেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প আবাসন যেমন শেয়ারড হাউজ বা সামরিক ব্যারাকের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সঠিক সমন্বয় না হলে নতুন এই অবকাঠামো আগের চেয়েও বেশি অদক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অবৈধ পথ, বিশেষ করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা গত দুই বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ জন এবং ২০২৫ সালে ৪১ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। অর্থাৎ, গত দুই বছরে মোট ৭৭ হাজারের বেশি মানুষের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগমন দেশটির আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে অবৈধ প্রবেশ কমে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একদিকে যেমন বিপুল ব্যয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে মানবিক আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাজ্যের এই নতুন পদক্ষেপকে একটি 'দ্বিমুখী সংকট' সমাধানের চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। একদিকে সরকার চাচ্ছে ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ বাঁচাতে এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করতে, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা সেই লক্ষ্যকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়তো সরকারের কোষাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমাবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই আবাসন সমাধান না আসা পর্যন্ত এই রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।