রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইয়েমেনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এসব সেনা হতাহত হয়েছেন।
সরকারপন্থী বাহিনীর দাবি, সংঘর্ষে হুথিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। ফলে দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির তুলনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দীর্ঘদিন ধরেই হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। এক মাসে পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার আহত হওয়ার ঘটনা সরকারি বাহিনীর ওপর সংঘাতের বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। গত শুক্রবার ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করা না গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হামলায় পাইপলাইনটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং মেরামত শেষে কবে আবার তেল পরিবহন শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আশঙ্কা, পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ ছাড়া রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের মজুত তেলও শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আগে থেকেই চাপে থাকা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে এরই মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।