নিহত জয় চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবত্যপাড়া গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের বড় ছেলে। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে অবস্থিত বেসরকারি ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটির বিটেক সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতে যান জয়। প্রথমে ভারতের দিল্লিতে সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হন তিনি। পরে বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে কলকাতার অদূরে বারাসাতে অবস্থিত ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
গত ৬ আগস্ট রাত ৮টার দিকে জয় চন্দ্র সরকারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকারকে মেসেজ করে জানান, তাঁর ছেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ খবর পাওয়ার পর থেকেই জয়ের পরিবারে নেমে আসে শোক ও উৎকণ্ঠা। তবে মৃত্যুর ধরন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় নানা প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, জয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক আত্মহত্যা নয়; এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আরও দাবি করা হয়েছে, জয় চন্দ্র সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারাসাত থানায় আটক রাখা হয়েছে। তবে ওই নারীর সঙ্গে জয়ের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল কিংবা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ওই নারীর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তাই পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাঁদের।
জয় চন্দ্র সরকারের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবত্যপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর শোক। বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করতে গিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি পরিবারের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, জয় চন্দ্র সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে আইনগতভাবে কোনো কার্যক্রমও শুরু হয়নি। পরিবারের দাবি, জয় চন্দ্র সরকারের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা পরিষ্কার করা হোক।