শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার উন্নয়ন প্রেক্ষিত: সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার। এতে সরকারের নীতিনির্ধারক, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এমপি বলেন, উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, অতীতের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে উত্তরাঞ্চল পিছিয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা প্রায় দুই দশক অবহেলার শিকার ছিল। দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধ করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সেমিনারে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের স্বার্থে বগুড়া বিভাগ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এ দাবি এখন সময়ের প্রয়োজন।
বগুড়ার প্রবীণ বুদ্ধিজীবী ডা. সিএম ইদরিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার বিভিন্ন সংসদ সদস্য, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোটা. ডা. মতিউর রহমান ও সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার।
সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রায় ২৫ জন অধ্যাপক ও গবেষক মতামত তুলে ধরে বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, শিল্পায়ন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। তারা আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উত্তরাঞ্চলকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার প্রত্যাশাই ছিল পুরো সেমিনারের মূল বার্তা।