জমি আছে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই জমি কাজে লাগাতে পারছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার অনেক বাসিন্দা। কেউ জমি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ মেটাতে চান, কেউ ব্যবসার জন্য টাকা জোগাড় করতে চান, আবার কেউ জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ নিতে চান। কিন্তু জমির নামজারি (খারিজ) আটকে থাকায় তাদের অনেকেরই এসব কাজ থেমে আছে।
ভূল্লী উপজেলা গঠনের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ভূমিসেবার এই জট কাটেনি। অনলাইনে নামজারির আবেদন করা গেলেও আবেদন-পরবর্তী কার্যক্রম এগোচ্ছে না। ফলে জমির কাগজপত্র নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন সেবাগ্রহীতারা। নতুন উপজেলা পাওয়ার পর সরকারি সেবা আরও সহজ হবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও ভূমিসেবায় উল্টো ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
ভূল্লীর ব্যবসায়ী আরিফের জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকা প্রয়োজন। সে জন্য নিজের জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় জমি বিক্রির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। আরিফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, জমির খারিজ বন্ধ থাকায় আমি জমি বিক্রি করতে পারছি না। জরুরি ভিত্তিতে আমার কিছু টাকার প্রয়োজন। কিন্তু খারিজ না হওয়ায় জমি বিক্রির প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে না। দ্রুত এর সমাধান চাই।
আরিফের মতো আরও অনেক সেবাগ্রহীতা নামজারির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তাদের কেউ জমি বিক্রি করতে পারছেন না, কেউ জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে পারছেন না। আবার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি না হওয়ায় সম্পত্তি বণ্টনেও জটিলতায় পড়ছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা, দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূল্লী উপজেলা গঠনের আগে এ এলাকার ইউনিয়নগুলো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে ছিল। চলতি বছরের ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকারের) বৈঠকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভেঙে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ভূল্লীকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করা হয়। নতুন উপজেলা গঠনের পর ভূমি ব্যবস্থাপনার তথ্য ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনো ভূল্লী উপজেলার জন্য ভূমি কর্মকর্তা পদ সৃজন হয়নি। ফলে নামজারির আবেদন গ্রহণ করা গেলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আইডিতে স্থানান্তর করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের এই প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার দায় শেষ পর্যন্ত তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। জমির কাগজপত্র নিয়ে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে যাতায়াতের খরচও।
ভূল্লী বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উপজেলা ঘোষণার সময় তারা ভেবেছিলেন সরকারি সেবা তাদের আরও কাছে আসবে। কিন্তু নামজারির মতো মৌলিক একটি সেবা যদি স্বাভাবিকভাবে না পাওয়া যায়, তাহলে নতুন উপজেলা হওয়ার সুফল কোথায় এমন প্রশ্ন তাদের।