মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী অংশ নেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) গ্রহণ, প্রাথমিক সাক্ষাৎকার এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।
মেহেরপুর দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করলেই হবে না, এর পাশাপাশি কর্মদক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই তরুণদের নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চাকরি মেলা শুধু চাকরি খোঁজার সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ দেয়। যোগ্যতা, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনো তরুণকে পিছিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী শামিম হোসেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মেহেরপুরের উপ-পরিচালক এস. এম. ওবায়দুল বাসার।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, অর্জিত দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাতে পারলেই একজন ব্যক্তি নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তারা তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ গ্রহণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্যও উৎসাহিত করেন।
তারা আরও বলেন, মেহেরপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। শিল্পায়নের মাধ্যমে জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজধানীমুখী কর্মসংস্থানের চাপও কমবে এবং জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
চাকরি মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশী মো. রিপন হোসেন বলেন, পড়াশোনা শেষ করার পর দীর্ঘদিন ধরে চাকরির চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন স্থানে আবেদন করলেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি।
তিনি বলেন, এ ধরনের চাকরি মেলার মাধ্যমে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে যদি একটি চাকরি পাই, তাহলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারব এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সহজ হবে।
আরেক চাকরিপ্রত্যাশী তামান্না ইসলাম বলেন, বর্তমান আয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি ভালো চাকরি পেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথও সুগম হবে। তিনি জানান, চাকরি মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
অংশগ্রহণকারী আমাইরা রহমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থার এ উদ্যোগ জেলার বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে চাকরি প্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছেন এবং নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে জেলার কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আয়োজকরা জানান, দেশে বেকারত্বের হার কমাতে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চাকরি মেলা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বেলুন উড়িয়ে চাকরি মেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের চাকরি মেলা জেলার বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।