শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড় হয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশ।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান। সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ।
সাতমাথায় পৌঁছে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং তাতে জুতা নিক্ষেপ করেন। একই সময়ে আশপাশের বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে টাঙানো এনসিপির কয়েকজন নেতার ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করে ছিঁড়ে ফেলা হয়। কয়েকটি ব্যানারে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকলে সাতমাথা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সমাবেশ থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর ও এনসিপির আরেক নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে বগুড়াসহ সারা দেশে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান বক্তারা। কয়েকজন নেতা কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানালেও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামস ইসলাম সাগর, সহসভাপতি মশিউর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিহাদ হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক জিতু, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম, সদস্যসচিব রাফিউল আলামিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হীরা, সদস্যসচিব সোহাগ, বগুড়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসাইনসহ জেলা ছাত্রদল এবং ২৮টি ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের শেষদিকে সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ছাত্রদলের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাতমাথার বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।